রুকন উদ্দিন, নেত্রকোণা:

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ১১নং চিরাং ইউনিয়নের গোপালাশ্রম গ্রামে ২৭ জুলাই ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে এক সম্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন ডা. সৈয়দ আব্দুল খালেক, তাঁর পিতা ছিলেন সৈয়দ আলাউদ্দিন এবং মাতা তব্বতের নেছা ।

মরহুম ডা. সৈয়দ আব্দুল খালেক তাড়াইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক পাশ করেন এবং ১৯৬৩ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ডাক্তারী পড়া শেষ করে খুলনায় চাকুরীতে যোগদান করেন। কিছুদিন চাকুরী করার পর চাকুরীতে মন বসাতে না পেরে কেন্দুয়ায় ফিরে এসে তিনি জনসেবার স্বার্থে নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে নিয়োজিত করেন। দেশের ক্রান্তিলগ্নে নিজেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও জড়িয়ে নেন।
১৯৬৭ সালে আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠাকাল থেকে তিনি কেন্দুয়া থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব সুদক্ষ নেতৃত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তান সরকারের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা নামক দেশকে স্বাধীন করার চিন্তা ধারায় কাজ করে গেছেন তিনি আমৃত্যুকাল পর্যন্ত।
১৯৭১ সালে দেশ মাতৃকার টানে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী, পুলিশ, আনসার এবং যুবকদেব সংগঠিত করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মহেষখলায় মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অবস্থান করেন এই গুণী ব্যক্তি।
মুজিব নগর সরকারের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তদারকির জন্যে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হলে আব্দুল হেকিম চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও ডা. সৈয়দ আব্দুল খালেককে সদস্য সচিব করা হয় ।

এ সময় মুক্তিযোদ্ধা দল গঠন ও পাকিস্তানিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর জন্য কেন্দুয়া, কলমাকান্দা ও দূর্গাপুর থানার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন এই তরুণ যুদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ সহ মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা প্রদান করাই ছিল ডা. সৈয়দ আব্দুল খালেকের প্রধান কাজ । কাজের দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ডা. সৈয়দ আব্দুল খালেক চির স্মরণীয়।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশকে গড়ে তুলতে অবিরাম কাজ করে গেছেন সময়ের সেরা এই মানুষটি ।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ