এ কে এম রেজাউল করিম, বিশেষ প্রতিনিধি(ফরিদপুর) :

প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় অভিভাবকগন। ঘটনাটি আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের ১০৬ নং আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমীন রেনীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম যোগদান করার পর থেকে নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। জাহিদুল ইসলাম অত্র বিদ্যালয়ে ৬ বছর চাকরি করার ফলে নিজের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য অভিভাবকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে বিদ্যালয়ের পাঠদানের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত করে আসছেন। গত ৩.১২.২৫ ইং রোজ বুধবার ২০২৫ রুটিন অনুযায়ী বার্ষিক পরীক্ষার দিন ধার্য থাকলেও বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক ( প্রভাবশালী ও শিক্ষক নেতা) হওয়ার জন্য তার ইচ্ছে মত আসা-যাওয়া করে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন , ওইদিন অপর প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা হাটখোলারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাকিবুল ইসলাম মিলনসহ ৪/৫ টি মোটরসাইকেল যোগে আরও ৪/৫ জন শিক্ষক এসে পরীক্ষা বন্ধ করে দেন এবং অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নিয়ে যান। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ পরীক্ষা নেওয়ার কথা দাবি করলে শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো তারাবদ্ধ করে মোটরসাইকেল যোগে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন ।
পরবর্তীতে অভিভাবকগণ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ফোনে বিষয়টি জানালে তিনি একজন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বিদ্যালয় পাঠিয়ে সকাল ১০ টার পরীক্ষা দুপুর সাড়ে ১২ টায় নেন এবং ২১.১২.২৫ ইং রবিবার উপজেলা ইউ এন ও বরাবর অভিভাবকগণ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এলাকাবাসী রজব আলী বলেন,প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে বসে রাজনীতি করেন।

অভিভাবক সুমন শেখ বলেন, প্রধান শিক্ষকের ড্রাইভার হচ্ছেন সহকারী শিক্ষক সাজেদুল ইসলাম। বিদ্যালয়ের পাঁচ জন শিক্ষকের দুজনই চলে যান অন্যত্র। শিক্ষাদান চরম ব্যাহত হচ্ছে।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রধান শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের বের করে দেওয়ার কারণে আমরা তার বদলী চাই।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমিনের পুত্রবধূ রুলিয়া পারভিন বলেন, প্রধান শিক্ষক চেয়ারে বসে শুধু মোবাইল টিপেন কিছু বললে উনি বলেন আমি সব সময় মোবাইলে মেল চেক করি। উনি কি উপজেলায় চাকরি করেন যে সব সময় মোবাইল চেক করতে হবে।

প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ওনাদের ভাই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব। আমি মফিজুল আমিনের ছেলেকে প্রথম বানাই না কেন, একজন ভ্যান চালকের ছেলে যদি ভালো লেখাপড়া করে তাহলে সেওতো প্রথম হতে পারে। যার প্রভাব ফেলছে আমার উপরে।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রকিবুল হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করার দায় ভার দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বোয়ালমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগের আলোকে বিদ্যালয়ে সরেজমিনে তদন্ত টিম গিয়েছিল। ওনারা এখনো আমার নিকট রিপোর্ট দেননি। রিপোর্ট দিলে আমি ব্যবস্থা নেব।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ