বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফরিদপুরের নির্বাচনীয় জনসভায় যাওয়ার সময় সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

মোঃ আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি(ফরিদপুর):
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার সাংবাদিক নাজমুল হুদা বাশারের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন নুর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিনানের ছোট ভাই শীর্ষ সন্ত্রাসী মুনায়েম হঠাৎ করে সাংবাদিক নাজমুল হুদা বাশার কে গতিরোধ করেন। এ সময় তিনি ধারালো অস্ত্র নিয়ে কোপানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তা প্রতিহত করে অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেয়। এরপর অভিযুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মুনায়েম ও তার সহযোগীরা নাজমুল হুদা বাশারকে এলোপাতাড়ি ঘুষি, লাথি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে হামলাকারীরা পাশ্ববর্তী জামান মেডিকেল হল ও নুর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করে সেখানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার মূল ডিভিআর রেকর্ডার জোরপূর্বক নিয়ে যায়। স্থানীয়দের ধারণা, মারধরের ভিডিও যেন সংরক্ষিত না থাকে—এই উদ্দেশ্যেই ডিভিআর ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
নাজমুল হুদা বাশার জানান, তিনি ঐদিন রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে সাংবাদিকদের নিয়ে নিউজ কভারেজে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি ফুটপাতের দোকান রয়েছে। এসব দোকানদারদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের কিছু স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় বিভিন্ন টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও অবৈধ ব্লাড বিক্রির সঙ্গে একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত, যার নেতৃত্বে কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিনান রয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সরেজমিন পত্রিকার ফটো সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন মনোয়ারকেও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় সাধারণ দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভয়ের পরিবেশে তারা ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না বলেও তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তারা আশ্বাস দেন।
সাংবাদিক সমাজ মনে করছে, একজন সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্যে এ ধরনের হামলা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

