রুকন উদ্দিন,নেত্রকোনা প্রতিনিধি,

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ৭ নং মাসকা ইউনিয়নের পনকেন্দুয়া মৌজার ধলেশ্বর বিলের প্রায় সাড়ে ১০ কাটা অনাবাদি খাসজমি উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের মৃত সাহেদ ফকির, তারা মিয়া, আব্দুর রাশিদ, আব্দুল সুবেদ ও তাদের পূর্ব পুরুষরা ভোগদখল করে। তাদের মৃত্যুর পর এখন তাদের উত্তরসূরী শারীরিক প্রতিবন্ধী মো: জসিম উদ্দিন, ভূমিহীন দিনমজুর মো: মোতালেব, জামাল মিয়া ও মো: মঞ্জু মিয়া বাপ দাদার ভোগদখলকৃত অনাবাদি খাসজমিটি অদ্যাবধি পর্যন্ত ভোগদখল করছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ধলেশ্বরী বিলের অনেক জমি প্রায় খাস। পূর্ব পুরুষদের আমল থেকেই যাঁর যাঁর পজিশন অনুযায়ী ভোগদখল করে আসছে। ভোগদখলে সরকারি বা স্থানীয়ভাবে কোন ধরনের বাঁধা নেই।

কান্দাপাড়া গ্রামের বর্তমানে ভোগদখলকার শারীরিক প্রতিবন্ধী মো: জসিম উদ্দিন, ভূমিহীন দিনমজুর মো: মোতালেব, জামাল মিয়া ও মঞ্জু মিয়া বলেন- পনকেন্দুয়া মৌজার ধলেশ্বর বিলের ১নং খতিয়ানের ৭৫৯ দাগের সাড়ে ১০ কাটা অনাবাদি জায়গা আমাদের বাপ দাদারা ভোগদখল করেছেন তাদের উত্তরসূরী হিসেবে এখন আমাদের ভোগদখলে। এই জমিটি অনাবাদি হওয়ায় প্রায় সারা বছরই পানির নিচে থাকে। বর্ষাকালে আমরা এই অনাবাদি খাসজমি থেকে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ দিয়ে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে ডালভাত খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করি। খাসজমিটি এখনও আমরাই ভোগদখল করছি। আমরা কেউ প্রতিবন্ধী, কেউ ভূমিহীন দিনমজুর, কেউবা রিক্সা চালক আমাদের নূন আনতে পান্তা পুড়ায়। কিন্তু, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমাদের মাসকা ইউনিয়নের আমাদের বাড়ির সাথে এই বিলটি, কিন্তু ৯ নং নওপাড়া ইউনিয়নের আজহারুল ইসলাম (সাজু) আমাদের এই জায়গায়তে মাছ ধরতে নিষেধ করার কে? তার বাড়ি তো আমাদের ইউনিয়নে না। লোকমুখে শুনতে পারছি সে নাকি কয়েকবছর আগে সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য (৫৬ শতক) ভূমি লিজ নিয়েছে এবং কান্দাপাড়া গ্রামের মো: ইনচানের কাছ থেকে টাকা খেয়ে বাকি অংশটুকু লিজ এনে দিয়েছে।

তারা আরও বলেন, আমাদের ভোগদখলকৃত এই অনাবাদি ভূমিতে যেন আমরা না যাই তার জন্য আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে নওপাড়া ইউনিয়নের আজাহারুল ইসলাম (সাজু)। আমাদের দাবি আমাদের ইউনিয়নের খাসজমি আমরা ভোগ করব অন্য ইউনিয়নের লোক হয়ে আজাহারুল ইসলাম (সাজু) আমাদের কেন হুমকি দেয়? আমরা এখন খুব ভয়ে জীবনযাপন করছি যেকোন সময় আমাদের উপর আক্রমণ হতে পারে।

কান্দাপাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মো: নুরুকুল, লিলকুশ, বাচ্চু মিয়া, আব্দুর রউফ বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি জামাল মিয়া, জসিম উদ্দিন, মোতালেব এবং মঞ্জু মিয়া’র বাপ দাদারা এই খাসজমিটি ভোগদখল করেছেন এখন তাদের ছেলেরা ভোগদখল করছে, কিন্তু হঠাৎ করে শুনছি আজাহারুল ইসলাম (সাজু) ও ইনচান মিয়া সরকারের কাছ ১০ থেকে ১২ বছর আগে দলিল করে নিয়েছে। আমাদের কথা হলো ১০/১২ বছর আগে লিজ নিয়ে থাকলে এখন কেন আজাহারুল ইসলাম (সাজু) ও ইনচান মিয়া দখল করতে আসে এতোদিন তারা কোথায় ছিল?
এ বিষয়ে আজাহারুল ইসলাম (সাজু) বলেন, আমার বাড়ি নওপাড়া ইউনিয়নের কাউরাট গ্রামে। কান্দাপাড়া গ্রামে আমি বিয়ে করেছি এবং পরবর্তীতে এই গ্রামেই নিজের মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। আমি কান্দাপাড়া গ্রামে বেশ কয়েকবছর শ্বশুর বাড়িতে (ঘরজামাই) ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে তারা যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আর জায়গার বিষয়টি হলো গত ২৬/০১/১৭ ইং সালে আমি ও আমার স্ত্রীর নামে ৯৯ বছরের জন্য ৫৬ শতক ভূমি লিজ নিয়েছি। ২০১৭ সালে লিজ নিয়েছেন তাহলে এতোদিন পরে কেন জমি দখল করতে চাচ্ছেন? উত্তরে তিনি বলেন এতোদিন ইচ্ছে করেই যাইনি।

কান্দাপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য মো: এনামুল হক মুঠোফোন জানান, আমিও ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি কান্দাপাড়া গ্রামের মো: জামাল মিয়া, জসিম উদ্দিন, মোতালেব এবং মঞ্জু মিয়া ভোগদখল করে আসছে কিন্তু এখন শুনতে পারছি নওপাড়া ইউনিয়নের আজাহারুল ইসলাম (সাজু) এবং কান্দাপাড়া গ্রামের মো: ইনচান মিয়া নাকি কয়েকবছর আগে ৯৯ বছরের জন্য লিজ নিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ