সদরপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাল সনদ, অর্থ আত্মসাৎ ও জমি দখলের অভিযোগ

আলী আকবর, ফরিদপুর ব্যুরোপ্রধান:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। জাল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ব্যবহার, দীর্ঘদিন একই বিদ্যালয়ে চাকরি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্যক্তিগত জমি দখল করে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের দুই শীর্ষ শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
ঘটনাস্থল সদরপুর উপজেলার হাট কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মাঝকান্দি ৮৪ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সম্প্রতি বিদ্যালয়টিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা চাঁন মিয়া ও তার ছেলে মো. মতিউর রহমান অভিযোগ করে জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চৌধুরী মো. লুৎফর রহমান জাফর এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবু বকর সিদ্দীক প্রায় ২৭ থেকে ২৮ বছর ধরে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা জাল শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট ব্যবহার করে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়ের নামে বিভিন্ন সময় উন্নয়ন কাজ দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব উন্নয়ন কাজের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিদ্যালয়সংলগ্ন ব্যক্তিগত জমিতে টয়লেট নির্মাণ করে স্থানীয় এক পরিবারের বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বাধা দিতে গেলে তাদের হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা নিজামউদ্দিন জানান, গাছগুলো চাঁন মিয়া রোপণ করলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সেসব গাছ ব্যবহার করতে দিচ্ছে না।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত দেন আরেক প্রতিবেশী মো. লাল মিয়া। তিনি বলেন, চাঁন মিয়ার বাবা আগে জমিটি স্কুলের নামে লিখে দিয়েছিলেন, পরে আবার তার নামে লিখে দেন। এখন কোন দলিল বৈধ হবে, সেটাই দেখার বিষয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক চৌধুরী মো. লুৎফর রহমান জাফর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ এনে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, কিন্তু তারা হেরেছে। বিদ্যালয়টি বৈধ জায়গাতেই প্রতিষ্ঠিত। জাল সার্টিফিকেট হলে অনলাইনে যাচাইয়ে তা ধরা পড়ত।”
অন্যদিকে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল আলীয়া (কামিল) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে চৌধুরী মো. লুৎফর রহমান জাফর নামে কোনো ছাত্রের রেকর্ড নেই। তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ জানায়, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাংবাদিক সংস্থার ফরিদপুর জেলা মহাসচিব লায়ন ডা. আকবর আলী বলেন, “আমরা সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি একাধিকবার পর্যবেক্ষণ করেছি। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনি ব্যত্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই বিদ্যালয়ে বদলি ছাড়াই দায়িত্ব পালন এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। দ্রুত নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

