কক্সবাজারে রাস্তার কাজ ফেলে রাখায় ভোগান্তিতে বিশ হাজার মানুষ

এম এ সাত্তার, কক্সবাজার প্রতিনিধি
রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ। ছবি: দৈনিক আশ্রয় প্রতিদিন
কক্সবাজার সদর উপজেলার ‘ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ-আলির জাহাল বাজার’ সড়কের কাজ দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। চাঁদে পাড়া রাবারড্রাম থেকে ছনখোলা ঘাটঘর বাজার হয়ে আলির জাহাল মেইন রোড অভিমুখে সড়কটির সংস্কারের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। তবে রাস্তা খোঁড়ার পর ইটের খোয়া ফেলে তিন বছরের বেশি সময় ধরে লাপাত্তা হয়ে আছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের সড়কটির (আলির জাহাল বাজার রোড) দৈর্ঘ্য প্রায় তেত্রিশ শত মিটার। ২০২০ সালে কোরোনা কালীন পরিস্থিতিতে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। পূর্ব থেকে ডাবল ইটের সলিন/এইচবিবি’র সড়কটি সংস্কার করে কার্পেটিং করা কাজের দরপত্র পায় মেসার্স আসাদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের মার্চ/এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে কাজ শুরু করে কচ্ছপ গতিতে এ রাস্তার ৫০/৬০ পার্সেন্ট কার্পেটিংয়ের কাজ হয়।বাকি রাস্তা খুঁড়ে ইটের খোয়া ফেলার পর দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ ফেলে চলে যান।অথচ এ রাস্তার কাজের সময়সীমা দুইবছর আগে পেরিয়ে গেলেও বাকি কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেই ঠিকাদারের।
গত সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংস্কারের নামে পুরোনো সড়কটি খুঁড়ে কেবল খোয়া ফেলে রেখে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকার কারণে সেসব খোয়াও সরে গিয়ে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই সড়কটি দিয়ে চলছে। মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের ব্রেক চাপলে চাকা পিছলে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
পিএমখালীর স্থানীয় মুবিন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রাস্তার এই অবস্থায় নিজেই দুর্ভোগে আছি। যেকারণে এলাকার মেম্বার হিসেবে মানুষের গালমন্দ শুনতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোন সুরাহা হয়নি।এখন ঠিকাদারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সড়কটি ভাঙাচোরা থাকায় রাতে যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী অনেক খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন রাস্তা মেরামতের কাজটি বন্ধ থাকায় গ্রামের লোকজনের চলাচলের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার লাপাত্তা।আমরা জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার আসাদ জানান- মূলত ফান্ড সংকটের কারণে কাজ বন্ধ ছিলো এটা সত্য। সম্প্রতি ফান্ড এসেছে। শীঘ্রই কাজ শুরু করা হবে। আজও সাইটে গিয়েছিলাম। কাল থেকেই কাজ শুরু করে দেওয়ার চেষ্টা করছি।
এ প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে ২/১ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করার কথা জানান উপজেলা উপ সহকারী প্রকৌশলী মো: হেলাল উদ্দিন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১৯তম বৈঠকে কোনো কারণ ছাড়া মাঝপথে কাজ বন্ধ রাখা ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

